মোবাইলের ইন্টারনেট স্পীড বৃদ্ধি করার ৫ টি দারুন উপায়

বর্তমান সময়ে আমরা নিজেদের ফোন কে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি। ফোনে আমরা ইন্টারনেট ছাড়া এক পাও চলতে পারেনা। এই সময় আমাদের অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় স্লো স্পিড এর। আজকের এই লেখাটিতে জানবো কিভাবে আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। আপনার ফোনের কয়েকটি বিশেষ সেটিং কি আপনাকে পরিবর্তন করতে হবে। এগুলি করার পরে আপনার ফোনের ইন্টারনেট স্পিড অনেকটা বেড়ে যাবে। নিচের লেখা তথ্যগুলি মনোযোগ সহকারে পড়ুন যদি আপনার ইন্টারনেট স্পিড বাড়াতে হয়

মোবাইলের ইন্টারনেট এর স্পীড বৃদ্ধি করার কয়েকটি টিপস

ইন্টারনেটের কল্যানে হাতের মুঠোয় এখন আমরা পৃথিবীর কোনায় কোনায় খবর পেয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো ধীর গতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময়। অনেক বছর আগে আমরা ইন্টারনেট পেয়ে গেলেও ইন্টারনেটের স্পিড এর উপরে আমরা এখনো ক্ষমতা পাইনি। ইউটিউবে ভিডিও দেখা থেকে শুরু করে যখন আমরা গুগলে কোন জিনিস সার্চ করি তখন আমাদের ধীর গতির সম্মুখীন হতে হয়। কোন জিনিস যখন আমরা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করি তখন ঘন্টার পর ঘন্টা লেগে যায় সেটি ডাউনলোড হতে। চলুন এই সমস্যা গুলোর সমাধান আমরা জেনে নিই একে একে।

ফোনের ক্যাশ ডাটা ক্লিয়ার করুন

সবার আগে আপনার নিজের ফোনে ক্যাশ ডাটা বলে একটি জায়গা রয়েছে। ক্যাশ ডাটা কে সবার আগে আপনাকে সাফ করতে হবে এবং এই কাজটি আপনাকে মাসে অন্তত তিন থেকে চার বার করতে হবে। ক্যাশ ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে জায়গা বাড়ায় ফলে আপনার প্রসেসরে অসুবিধা দেখা দেয়। এটি পরিষ্কার রাখায় আপনার প্রসেসরে অনেকটা উন্নতি হবে এবং ভাল ইন্টারনেট পেতে আপনার প্রসেসর আপনার ফোনকে অনেকটা সাহায্য করবে। এই কারণে আপনাকে ক্যাশ ডাটা অবশ্যই ক্লিয়ার রাখতে হবে। এতে আপনার ইন্টারনেটের স্পিড অনেকটা বেড়ে যাবে।

ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপস গুলো কে বন্ধ করে দিন

আমরা যখন নিজেদের ফোন ব্যবহার করি তখন অনেক জিনিস একসাথে চালায়। উদাহরণসহ নিয়ে যেতে পারে টুইটার ইউটিউব গুগোল এরকম অনেক অ্যাপ্লিকেশন আমরা একসাথে ফোনে ব্যবহার করি। তাছাড়া আরও অনেক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেগুলো অজান্তেই আপনার ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে সারাক্ষণ। এতে আপনার ফোনের প্রসেসর এর উপর একটা চাপ পড়ে। আপনি জেনে অবাক হবেন এই সমস্ত ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে অ্যাপ্লিকেশনগুলি আপনার ফোনের ডাটা গুলিকে খেতে থাকে। সহজ বাংলা ভাষায় বললে এই সকল অ্যাপ্লিকেশনগুলি আপনার অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে থাকে ফলে আপনি যে অ্যাপ্লিকেশনটি বর্তমানে ব্যবহার করছেন তাতে ইন্টারনেটের স্পিড অনেক কম হয়ে যায়। এই কারণে আপনাকে সব সময় নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ গুলি বন্ধ করে দিতে হবে। সাথে সাথে দেখতে হবে কোন অ্যাপগুলি ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক জায়গা খাচ্ছে সেগুলো কি ডিলিট করে দিতে হবে।

অটো- আপডেট অপশন বন্ধ করে দিন

Auto-update একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা ইন্টারনেট এর গতি কমানোর জন্য। আমাদের অধিকাংশের ফোনে এই জিনিসটি করা থাকে প্রথম থেকেই। এর ফলে আপনার ফোনে যতগুলা অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে তারা সব সময় গুগল প্লে স্টোর থেকে ইন্টারনেট নিতে থাকে এবং নিজেদেরকে আপটুডেট রাখতে থাকে। সারাক্ষণ ইন্টারনেট থেকে ডাটা নেয়ার জন্য আপনার ডাটা স্পিড অনেকটা কমে যায়। ফলে আপনার বর্তমান ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশনে সফলভাবে ইন্টারনেট পেতে অসুবিধা হয়। এই কারণে আপনাকে সবসময় অটো আপডেট বন্ধ করে রাখতে হবে নিজের ফোনের। এটি করার দ্বারা আপনার ফোনে ইন্টারনেট স্পিড অনেকটা বেড়ে যাবে।

নেটওয়ার্ক সেটিংস চেঞ্জ করুন

নেটওয়ার্ক সেটিং আপনার ফোনে ইন্টারনেট এর স্পীড বাড়াতে অনেকটা সাহায্য করে। ফুল নেটওয়ার্ক সেটিং ব্যবহার করলে আপনার ফোনের ইন্টারনেট স্পিড অনেকটা কমে যেতে। চলুন আমরা সঠিক ইন্টারনেট ব্যবহার করা শিখে নিন এবং কোন সেটিং এ ক্লিক করলে আপনার স্পিড বেড়ে যাবে সেটি জেনে নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক বা কানেক্টিভিটি সেটিংসে যান। এরপর অপারেটর সেকশনে গিয়ে “অটো সিলেক্ট” অপশনটি বন্ধ করে ম্যানুয়ালি অপারেটর বেছে নিন এবং নেটওয়ার্ক সেট আপ করুন। এতে আপনার কাজ হয়ে যাবে এবং ইন্টারনেটের স্পিড বেড়ে যাবে।

APN সেটিংস ঠিক করুন

APN হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ফোনে ইন্টারনেট স্পিড এর জন্য। এটিকে সর্বদা ঠিক রাখতে হবে। APN মানে Access Point Network -এর সেটিংস ঠিক আছে কিনা তা অবশ্যই দেখে নিন।আপনি ম্যানুয়ালিও APN -এর সেটিংসকে ঠিক করতে পারেন। আপনার এটি করতে অসুবিধা হলে আপনি নিজের কাস্টমার সেন্টারে কল করে ঠিক করে নিতে পারবেন। আপনি যে সিম টি ব্যবহার করছেন সেই সিমের কাস্টমার সেন্টারে কল করুন এবং নিজের এপিএন সেটিং ঠিক করুন

উপসংহার


উপরে বলা বিষয়গুলি মেনে চলুন তাহলে আপনার ফোনের ইন্টারনেট স্পিড খুবই দ্রুত হয়ে যাবে। যদি আপনি উপরে দেয়া জিনিস গুলো সঠিক ভাবে আপনার ফোনে সেট করতে পারেন তাহলে আপনার ইন্টারনেট স্পিড আগের থেকে অনেক গুন বেশী বেড়ে যাবে এবং আপনাকে আর কখনো ধীর গতির ইন্টারনেট এর সম্মুখীন হতে হবে না। এই লেখা টি ভাল লাগলে আপনি আমাদের বাকি লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন।

Leave a Comment